শিশুর মেধা বিকাশে কি কি খাবার খাওয়ানো জরুরী?

শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
শিশুর মেধা বিকাশে খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ।


নিয়মিত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন।


নিয়মিত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার শিশুর দৈহিক ও মানসিক বিকাশে সাহায্য করে থাকে। কিন্তু সব খাবারে একই পুষ্টিগুণ থাকে না, কিছু খাবার আছে যার মধ্যে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ বিদ্যমান।

শিশুর মস্তিষ্ক সক্রিয় ও সতেজ রাখার জন্য খাবারের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ । শিশুর মেধা ও বুদ্ধি বিকাশে মস্তিষ্ক সক্রিয় এবং সতেজ রাখা জরুরী । মনে রাখতে হবে যে খাবারগুলো শিশুর মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেসব খাবার শিশুকে নিয়মিত খেতে খেতে দিতে হবে । এ বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে শিশুকে সব ধরণের পুষ্টিকর খাবার সুষমভাবে খাওয়াতে হবে । প্রয়োজনে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ নিতে পারেন । আসুন জেনে নিই কোন খাবারগুলো আপনার শিশুর মেধা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।

ডিম : ডিম শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শিশুদের মস্তিষ্কের বিকাশসাধন দ্রুত হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কোলাইন নামে একটি পুষ্টি উপাদান । কোলাইন মস্তিষ্কের গভীরে স্মৃতিকোষ তৈরি করতে সাহায্য করে । ডিমের কুসুমে প্রচুর কোলাইন আছে । আট বছর পর্যন্ত প্রতিদিন যতটুকু কোলাইন লাগে তার প্রায় সমপরিমাণ পুষ্টি একটি ডিমের কুসুমে আছে । ডিমে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন, ভিটামিন এ ও ফোলেটও রয়েছে এদের প্রত্যেকটিই কোষের বৃদ্ধি, বিকাশসাধন ও মেরামতে প্রয়োজন । প্রথমতও, তাই শিশুকে প্রতিদিন ডিম খেতেদিন ।

তৈলাক্ত মাছ : তৈলাক্ত মাছ শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তৈলাক্ত মাছে থাকা ওমেগা ৩ মস্তিষ্কের বিকাশসাধন করে  ও শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী । তাই তৈলাক্ত মাছ খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কোষের বিকাশসাধনের জন্য অন্যতম বিল্ডিং ব্লক হচ্ছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এ পুষ্টি নিউরোট্রান্সমিটার ফাংশনে ভূমিকা রেখে আচরণগত সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় নিম্নমাত্রার ওমেগা ৩ এর সাথে কম মেধার যোগসূত্র দেখা গেছে এবং অন্যদিকে ওমেগা ৩ সাপ্লিমেন্টেশনে মেমোরি ফাংশন বৃদ্ধি পেয়েছিল।দ্বিতীয়ত, শিশুকে নিয়মিত তৈলাক্ত মাছ খেতেদিন ।

গোটা শস্য :গোটা শস্য শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শিশুদের সকালের নাস্তায় গোটা শস্য রাখা উচিত। কার্বোহাইড্রেটে সমৃদ্ধ এই খাবার মস্তিষ্কে গ্লুকোজ ও এনার্জির যোগান দেয়। এতে প্রচুর বি ভিটামিনও থাকে যা নার্ভাস সিস্টেমকে সুস্থ ও পুষ্ট রাখে। অনেক গবেষণায় পাওয়া গেছে, হোল গ্রেনের ব্রেকফাস্ট শর্ট-টার্ম মেমোরি ও মনোযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। গোটা শস্যে উচ্চ পরিমাণে ফাইবারও রয়েছে, যা শরীরে গ্লুকোজ সাপ্লাই নিয়ন্ত্রণ করে। তৃতীয়ত, শিশুকে নিয়মিত গোটা শস্য খেতেদিন ।

বিনস : বিনস শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শিমের বিচির মতো বিচি প্রকৃতির খাবারে বিনস উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। পিন্টো ও কিডনি বিনসে ওমেগা ৩ ফ্যাট বেশি থাকে, যা মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও কার্যক্রমের জন্য দরকারী। বিনস শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । চতুর্থত, শিশুকে নিয়মিত গোটা বিনস খেতেদিন ।

সবুজ শাক সবজি : সবুজ শাক সবজি শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। সবুজ শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আছে যা আপনার শিশুর মস্তিষ্ক গঠনে সহায়তা করে তাই শিশুর খাবার মানুষের কিছু শাক সবজি রাখা অত্যাবশ্যক । পঞ্চতম, শিশুকে নিয়মিত সবুজ শাক সবজি খেতেদিন ।

ফলমূল : ফলমূল শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। ফলে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল আছে যা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করে । তাই প্রতিদিন শিশুকে অল্প করে হলেও ফলমূল খাওয়ান। ষষ্ঠত, শিশুকে নিয়মিত ফলমূল খেতেদিন ।

দুধ : দুধ, দই ও পনির পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার । এ জাতীয় খাবারের প্রোটিন, ভিটামিন বি ও অন্যান্য পুষ্টি মস্তিষ্কের টিস্যু, নিউরোট্রান্সমিটার ও এনজাইমের গ্রোথের জন্য প্রয়োজনীয়। দুধ, দই ও পনির এসবকিছু মস্তিষ্কের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এসব খাবার ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ বলে এগুলো খেলে দাঁত ও হাড় মজবুত হবে । দুধ, দই ও পনির পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। শিশুদের বয়স অনুসারে বিভিন্ন মাত্রার ক্যালসিয়াম প্রয়োজন হতে পারে। আপনার শিশুকে প্রতিদিন দুগ্ধজাত (ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ) খাবার খাওয়ান। পরিশেষে বলতে চাই, আপনার শিশুদের পরিপূর্ণ পুষ্টির জন্য প্রতিদিন দুগ্ধজাত (ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ) খাবার খাওয়ান । দুধ, দই ও পনির শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

য়ানো জরুরী ভিডিওতে দেখুন

 

 553 total views,  2 views today

1 thought on “শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>